মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে পৃথক অভিযানে তিনটি কারখানা থেকে ১৫৫ বাংলাদেশিসহ ২৩৪ বিদেশি শ্রমিককে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। বৈধ কাগজপত্র না থাকা, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও মালয়েশিয়ায় অবস্থান এবং অনুমোদিত পাস বা পারমিটের অপব্যবহারের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে।
জোহর ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার মুয়ারের পারিত জামিল এলাকায় দুটি আসবাবপত্র কারখানায় প্রথম অভিযান চালানো হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা অভিযানে মোট ১৭৬ জন পুরুষ বিদেশি শ্রমিককে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ১৪৭ জন বাংলাদেশি, ২৭ জন নেপালি, দুজন চীনা এবং একজন মিয়ানমারের নাগরিক।
অভিযানের সময় কারখানার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা দুই স্থানীয় নারী কর্মীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। মুয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের অপারেশন প্রধান মোহাম্মদ ইজওয়ান ওসমানের নেতৃত্বে বেলা ১১টার দিকে অভিযান শুরু হয়।
ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা জানান, অভিযান চলাকালে কয়েকজন বিদেশি শ্রমিক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে কর্মকর্তারা আগেই পুরো কারখানা এলাকা ঘিরে ফেলায় তাদের কেউ পালাতে পারেননি।
পরে একই দিনে বাতু পাহাতের জালান আয়ার হিতাম-ইয়ং পেং এলাকায় একটি কাঠের কারখানায় অভিযান চালানো হয়। দুপুর ১২টার দিকে শুরু হওয়া ওই অভিযানে সাত নারীসহ ৫৮ বিদেশি শ্রমিককে আটক করা হয়।
দ্বিতীয় অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ২৪ জন মিয়ানমারের, ১৬ জন ভারতের, আটজন বাংলাদেশের, সাতজন চীনের, দুজন নেপালের এবং একজন পাকিস্তানের নাগরিক। এ সময় একজন স্থানীয় লরি চালককেও আটক করা হয়।
বাতু পাহাত ইমিগ্রেশন বিভাগের অপারেশন প্রধান ইখমাল ফাউজির নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে ইমিগ্রেশন বিভাগের ৫৫ জন কর্মকর্তা ও সদস্য অংশ নেন।
ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, দুই অভিযানে আটক বিদেশি শ্রমিকদের বয়স ২০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। প্রাথমিক তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এর মধ্যে বৈধ ভ্রমণ বা কাজের কাগজপত্র ছাড়া মালয়েশিয়ায় প্রবেশ, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশটিতে অবস্থান এবং নির্ধারিত পাস বা ওয়ার্ক পারমিটের অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট ১৯৫৯-এর বিভিন্ন ধারায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে আটক হওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হবে।
অভিযান শেষে ২৩৪ বিদেশি শ্রমিককে জিজ্ঞাসাবাদ ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য জোহরের পেকান নানাস ও পন্তিয়ান ইমিগ্রেশন আটককেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের বৈধ কাগজপত্র, ভিসা ও কর্মসংস্থানের অনুমোদন নিয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষ নিয়মিত অভিযান চালিয়ে থাকে। এবারের অভিযানে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি আটক হওয়ায় দেশটিতে থাকা বাংলাদেশি শ্রমিকদের বৈধ কাগজপত্র ও কর্মঅনুমতির বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।

