দক্ষিণ কোরিয়ায় পলাতক শতাধিক আন্তর্জাতিক অপরাধী

0
11
দক্ষিণ কোরিয়ায় পলাতক শতাধিক আন্তর্জাতিক অপরাধী
দক্ষিণ কোরিয়ায় পলাতক শতাধিক আন্তর্জাতিক অপরাধী

দক্ষিণ কোরিয়ায় বিদেশে সংঘটিত অপরাধের অভিযোগে খোঁজা হচ্ছে এমন ১১০ জন বিদেশি নাগরিক অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। ইন্টারপোলের সহযোগিতা অনুরোধের ভিত্তিতে পাওয়া এসব তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বড় একটি অংশ চীনসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নাগরিক। তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার পুলিশ।

দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় পুলিশ সংস্থা (NPA) দেশটির সংসদ সদস্য কিম জুন-হওয়ানের কার্যালয়ে জমা দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানিয়েছে, ১২ আগস্ট পর্যন্ত ১১০ জন বিদেশি পলাতক কোরিয়ায় অবস্থান করছিলেন। তারা নিজ দেশ বা অন্য কোনো দেশে সংঘটিত অপরাধের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে wanted বা পলাতক হিসেবে তালিকাভুক্ত।

জাতীয়তার হিসাবে সবচেয়ে বেশি চীনের নাগরিক। দেশটির বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের ৪০টি সহযোগিতা অনুরোধ রয়েছে, যা মোট সংখ্যার প্রায় ৩৬ শতাংশ। এরপর রয়েছে উজবেকিস্তান থেকে ১৯ জন, মঙ্গোলিয়া থেকে ১৭ জন এবং ভিয়েতনাম থেকে ১৩ জন। বাকি ব্যক্তিদের মধ্যে কাজাখস্তান, রাশিয়া, কিরগিজস্তান, থাইল্যান্ড ও জাপানের নাগরিকও রয়েছেন।

অপরাধের ধরন বিশ্লেষণ করলেও উঠে এসেছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ প্রতারণা সংক্রান্ত। এ ধরনের মামলায় ৪৭ জনকে খোঁজা হচ্ছে। আরও ২৯টি ঘটনায় শিশু ও যুব সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন, অপহরণ, অবৈধভাবে আটকে রাখা এবং যৌন ব্যবসা-সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে সাতজন এবং চুরি, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, আহত করা ও হামলার ঘটনায় পাঁচজন করে পলাতক রয়েছেন।

ইন্টারপোল কোনো ব্যক্তির অবস্থান সম্পর্কে দক্ষিণ কোরিয়াকে সহযোগিতার অনুরোধ জানালে জাতীয় পুলিশ সংস্থা সংশ্লিষ্ট প্রাদেশিক পুলিশকে বিষয়টি জানায়। এরপর সন্দেহভাজন ব্যক্তি যে এলাকায় অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হয়।

পলাতকদের ধরতে এ বছর দক্ষিণ কোরিয়া আন্তর্জাতিক সহযোগিতার জন্য পুলিশের জনবলও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। জাতীয় পুলিশ সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মীর সংখ্যা ২২ থেকে বাড়িয়ে ৬৪ জন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো পলাতকের সংখ্যাও বেড়েছে। গত বছর যেখানে ১৩ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল, চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪ জনে।

সম্প্রতি এমন একটি ঘটনায় চীনের এক নাগরিককে গ্রেপ্তার করে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। পঞ্চাশোর্ধ্ব ওই ব্যক্তি ১৯৯৭ সালে চীনে ডাকাতি ও হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ। ২০১৭ সালে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবেশ করে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন। গত মাসে গিয়ংগি নামবু প্রাদেশিক পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে চীনে ফেরত পাঠায়।

তবে এই সহযোগিতা শুধু বিদেশি পলাতকদের ধরার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকেরা বিদেশে অপরাধ করে পালিয়ে গেলেও একই ধরনের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। চীনা কর্তৃপক্ষ গত বছর চীনে পালিয়ে যাওয়া ১৯২ জন কোরীয় প্রতারণা ও ভয়েস ফিশিং সন্দেহভাজনকে খুঁজে বের করে দক্ষিণ কোরিয়ায় ফেরত পাঠিয়েছে।

মঙ্গোলিয়ার সঙ্গেও এ ধরনের সহযোগিতা বাড়ছে। চলতি বছর দক্ষিণ কোরিয়া থেকে মঙ্গোলিয়ায় পালিয়ে যাওয়া ১৩ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যা ২০২৫ সালের তুলনায় গ্রেপ্তারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সংসদ সদস্য কিম জুন-হওয়ান বলেছেন, বিদেশে গুরুতর অপরাধ করা ব্যক্তিরা কোরিয়ায় লুকিয়ে থাকলে তা দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগের বিষয়। তাই পলাতকদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ইন্টারপোল সহযোগিতার জন্য আরও জনবল ও বাজেট বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে