কোরিয়ায় ৬০ হাজারের বেশি পার্টটাইম চাকরির বিজ্ঞাপন

0
42
কোরিয়ায় ৬০ হাজারের বেশি পার্টটাইম চাকরির বিজ্ঞাপন
কোরিয়ায় ৬০ হাজারের বেশি পার্টটাইম চাকরির বিজ্ঞাপন

দক্ষিণ কোরিয়ায় পড়াশোনার পাশাপাশি পার্টটাইম কাজ করতে চান অনেক বিদেশি শিক্ষার্থী। নিজের থাকা-খাওয়ার খরচ চালানো এবং পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ কমাতে তাঁদের কাছে খণ্ডকালীন চাকরি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু চাকরি খোঁজার প্ল্যাটফর্মে বিপুলসংখ্যক বিজ্ঞাপন দেখা গেলেও উপযুক্ত কাজ খুঁজে পেতে অনেক শিক্ষার্থীকে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার পার্টটাইম চাকরি খোঁজার প্ল্যাটফর্ম আলবাচিংগু (알바친구) অ্যাপের অঞ্চলভিত্তিক ডেটায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় চাকরির বিজ্ঞাপনের বড় উপস্থিতি দেখা যায়। দৃশ্যমান নীল বৃত্তে দেখানো সংখ্যাগুলো যোগ করলে মোট দাঁড়ায় ৬০ হাজার ৯৪১। অর্থাৎ অঞ্চলভিত্তিক প্রদর্শিত সংখ্যার যোগফল ৬০ হাজার ছাড়িয়েছে।

তবে এই সংখ্যাকে কোরিয়ায় বর্তমানে থাকা স্বতন্ত্র পার্টটাইম চাকরির সঠিক মোট সংখ্যা বলা যাবে না। একই বিজ্ঞাপন একাধিক এলাকায় দেখানো হয়েছে কি না, বিজ্ঞাপনগুলো এখনো সক্রিয় কি না এবং অ্যাপের হিসাব কীভাবে তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেই। তাই সংখ্যাটি অ্যাপে প্রদর্শিত অঞ্চলভিত্তিক ডেটার যোগফল হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

প্রশ্ন হলো, চাকরির বিজ্ঞাপন এত থাকার পরও বিদেশি শিক্ষার্থীদের একটি অংশ কেন কাজ পাচ্ছেন না?

এর অন্যতম বড় কারণ ভাষাগত বাধা। কোরিয়ায় রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে, সুপারশপ, দোকান ও গ্রাহকসেবার মতো অনেক কাজে কোরিয়ান ভাষায় যোগাযোগ করতে হয়। কাজের নির্দেশনা বোঝা, গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলা এবং সহকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করার জন্য ভাষাজ্ঞান প্রয়োজন। ফলে কোরিয়ান ভাষায় দুর্বল শিক্ষার্থীরা অনেক চাকরিতে আবেদন করেও সাক্ষাৎকার বা নিয়োগের পর্যায়ে সমস্যায় পড়তে পারেন।

এর সঙ্গে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসের সময়সূচি। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন ও গ্রুপ প্রজেক্ট সামলাতে হয়। অনেক প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও শিক্ষার্থীদের ক্লাসের সঙ্গে সেই সময় মেলে না। কোনো চাকরিতে দিনের বেলায় কর্মী প্রয়োজন, অথচ আবেদনকারী শিক্ষার্থীর তখন ক্লাস থাকলে নিয়োগ পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

ডে শিফট ও নাইট শিফটের অসামঞ্জস্যও বড় সমস্যা। কিছু প্রতিষ্ঠানে রাতে কর্মী প্রয়োজন হয়, আবার কিছু জায়গায় দিনের শিফট ছাড়া কাজের সুযোগ নেই। রাতভর কাজ করার পর সকালে ক্লাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য কষ্টকর। অন্যদিকে, শুধু সন্ধ্যায় কাজ করতে চাইলে নিজের সময়ের সঙ্গে মেলে এমন চাকরি পাওয়া কঠিন হতে পারে। দীর্ঘদিন এভাবে কাজ করলে পড়াশোনা, ঘুম ও স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।

কাজের ধরনও চাকরি নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গুদাম, কারখানা, রান্নাঘর ও কিছু সরবরাহকেন্দ্রের কাজে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা, ভারী জিনিস বহন করা কিংবা দ্রুতগতিতে কাজ করার প্রয়োজন হতে পারে। সব শিক্ষার্থীর পক্ষে এমন শারীরিক পরিশ্রম করা সম্ভব নয়। ফলে চাকরির বিজ্ঞাপন থাকলেও কাজের পরিবেশ ও শারীরিক সক্ষমতার সঙ্গে না মেলায় অনেকে আবেদন করতে পারেন না।

কর্মস্থলের দূরত্ব এবং যাতায়াতের খরচও বিবেচনায় আসে। বাসা থেকে অনেক দূরে কাজ করতে হলে যাতায়াতে সময় ও অর্থ দুটোই বেশি লাগে। দীর্ঘ সময় কাজ করার পর সেই খরচ বাদ দিয়ে হাতে কত টাকা থাকবে, তা শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই শুধু চাকরি পাওয়া নয়, কাজটি আর্থিকভাবে লাভজনক এবং পড়াশোনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটিও বিবেচনা করতে হয়।

এ ছাড়া কোরিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের পার্টটাইম কাজের ক্ষেত্রে ভিসা ও ইমিগ্রেশনের নিয়ম মানতে হয়। D-2 বা D-4 ভিসায় থাকা শিক্ষার্থীদের কাজ শুরু করার আগে নিজেদের ভিসার শর্ত, প্রয়োজনীয় অনুমতি এবং অনুমোদিত কাজের সময়সীমা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। সব ধরনের কাজ বা সব কর্মস্থলে অনুমতি ছাড়াই কাজ করা যায় না। নিয়ম না জেনে কাজ শুরু করলে ইমিগ্রেশনসংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে।

সব মিলিয়ে, চাকরির বিজ্ঞাপনের সংখ্যা বেশি হলেই প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য কাজ পাওয়া সহজ হয়ে যায় না। ভাষা, ক্লাসের সময়সূচি, শিফট, শারীরিক পরিশ্রম, যাতায়াত এবং ভিসার শর্ত—সবকিছু মিলিয়ে উপযুক্ত চাকরি খুঁজে পাওয়া অনেকের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে।

শিক্ষার্থীদের জন্য তাই নিজের সময়সূচি, ভাষাগত দক্ষতা, কাজের সক্ষমতা এবং ভিসার নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চাকরি খোঁজা জরুরি। অন্যদিকে, বিদেশি শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে নিয়োগদাতাদেরও তাঁদের সময়সূচি ও ভাষাগত সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে