দক্ষিণ কোরিয়ায় বিদেশি নাগরিকদের বাড়ির মালিকানা গত তিন বছরে প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। দেশটিতে বিদেশিদের মালিকানায় থাকা অ্যাপার্টমেন্ট ও অন্যান্য যৌথ আবাসন ইউনিটের সংখ্যা ২০২২ সালের শেষ ভাগের ৭৬ হাজার ১৪৭টি থেকে ২০২৫ সালের শেষ ভাগে বেড়ে ৯৯ হাজার ২১৫টিতে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ তিন বছরে বেড়েছে ২৩ হাজার ৬৮টি বাড়ি।
কোরিয়ার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেশটির ভূমি, অবকাঠামো ও পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং কোরিয়া রিয়েল এস্টেট বোর্ডের তথ্যের বরাতে এ চিত্র উঠে এসেছে। বিদেশিদের বাড়ির মালিকানা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে চীনা নাগরিকদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। একই সময়ে ভিয়েতনামের নাগরিকদের বাড়ির মালিকানাও দ্রুত বেড়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের শেষ ভাগে দক্ষিণ কোরিয়ায় চীনা নাগরিকদের মালিকানায় ছিল ৪৩ হাজার ৫৮টি আবাসন ইউনিট। ২০২৫ সালের শেষ ভাগে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৯ হাজার ৮২টিতে। তিন বছরে চীনা নাগরিকদের মালিকানাধীন বাড়ির সংখ্যা বেড়েছে ৩৭ দশমিক ২ শতাংশ। বিদেশিদের মালিকানায় থাকা বাড়ির মোট বৃদ্ধির প্রায় ৭০ শতাংশই এসেছে চীনা নাগরিকদের মাধ্যমে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মালিকানায় থাকা বাড়ির সংখ্যাও বেড়েছে। ২০২২ সালের শেষ ভাগে তাঁদের মালিকানায় ছিল ১৬ হাজার ৮১০টি ইউনিট, যা ২০২৫ সালের শেষ ভাগে বেড়ে ১৯ হাজার ৪৩৫টিতে দাঁড়ায়।

তবে শতকরা হিসাবে সবচেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি দেখা গেছে ভিয়েতনামের নাগরিকদের ক্ষেত্রে। ২০২২ সালের শেষ ভাগে তাঁদের মালিকানায় ছিল ৮৪২টি আবাসন ইউনিট। ২০২৫ সালের শেষ ভাগে তা বেড়ে ১ হাজার ৭৮৬টিতে পৌঁছায়। অর্থাৎ তিন বছরে সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।
বিদেশিদের বাড়ির মালিকানা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাঁদের সম্পত্তি কেনাবেচায় অনিয়মের সন্দেহ নিয়েও আলোচনা চলছে। ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিদেশিদের সম্পত্তি লেনদেন পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর কাছে ২ হাজার ৩৬৮টি সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে বিদেশিদের বিক্রি করা এবং কোরীয় নাগরিকদের কেনা সম্পত্তির লেনদেন বাদ দিলে ২ হাজার ১৭৯টি ঘটনা থাকে। এসব ঘটনার মধ্যে চীনা নাগরিকদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ছিল ১ হাজার ১৮৪টিতে, যা প্রায় ৫৪ দশমিক ৩ শতাংশ। ভিয়েতনামের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ছিল ৩৩টি।
তবে কোনো লেনদেন সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত হওয়া মানেই সেখানে আইন লঙ্ঘন প্রমাণিত হয়েছে, এমন নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই আইনগত অবস্থান নির্ধারিত হয়।
বিদেশিদের বাড়ি কেনার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় নাগরিকদের জন্য আবাসন কেনার সুযোগ এবং বিদেশি ক্রেতাদের ক্ষেত্রে নিয়মের সমতা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। কোরিয়ায় স্থানীয় ক্রেতাদের ঋণ গ্রহণ ও সম্পত্তি কেনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিধিনিষেধ রয়েছে। অন্যদিকে, বিদেশ থেকে অর্থ এনে বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে অর্থের উৎস এবং অর্থায়নের ধরন যাচাই করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ পরিস্থিতিতে বিদেশিদের সম্পত্তি কেনার তথ্য আরও বিস্তারিতভাবে পর্যবেক্ষণ এবং সন্দেহজনক লেনদেনের তদন্তের ফলাফল যথাযথভাবে সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতারা। তাঁদের মতে, শুধু সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য বিভিন্ন সংস্থার কাছে পাঠানোই যথেষ্ট নয়; তদন্ত শেষে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেটিও নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
কোরিয়ায় বিদেশিদের বাড়ির মালিকানা বৃদ্ধির এই পরিসংখ্যান দেশটির আবাসন বাজারে বিদেশি ক্রেতাদের উপস্থিতি সম্পর্কে একটি ধারণা দেয়। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ, আবাসন বাজারের নিয়ম এবং সন্দেহজনক লেনদেনের যথাযথ তদন্ত নিশ্চিত করার বিষয়টিও সামনে নিয়ে এসেছে।




