দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান শহরের নর্থ পোর্ট ওয়াটারফ্রন্ট পার্কের কৃত্রিম জলপথে আটকে থাকা হাঙর ‘বুকাং-ই’কে খোলা সমুদ্রে ফেরাতে দ্বিতীয় দফায় উদ্ধার অভিযান শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রথম দফার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর এবার বিশেষভাবে তৈরি ৫০ মিটার দীর্ঘ জাল, দুটি নৌযান এবং উদ্ধারকর্মীদের সহায়তায় হাঙরটিকে জলপথের বাইরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় অভিযান শুরুর কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কোরিয়া টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুসান সিটি কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে একটি যৌথ উদ্ধার দল এই অভিযান পরিচালনা করবে। জলপথের চতুর্থ পদচারী সেতুর কাছ থেকে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। অভিযানে ১০ জন কর্মী অংশ নেবেন। তাঁদের সঙ্গে থাকবে দুটি নৌযান। একটি নৌযান জালের মাঝের অংশ টেনে নিয়ে যাবে। অন্য নৌযান থেকে পানির প্রবাহ তৈরি করে হাঙরটিকে ধীরে ধীরে সমুদ্রের প্রবেশপথের দিকে পরিচালিত করার চেষ্টা করা হবে।
এবারের পরিকল্পনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বিশেষ জাল। জালটির দৈর্ঘ্য ৫০ মিটার এবং উচ্চতা ৬ দশমিক ৮ মিটার। হাঙরটি যাতে জালের পাশ দিয়ে বা নিচ দিয়ে বেরিয়ে আবার জলপথের ভেতরে ফিরে যেতে না পারে, সে জন্য জালের নিচের অংশে ভারী ওজন যুক্ত করা হয়েছে। উদ্ধারকারীরা জলপথের দুই পাশে জালের প্রান্ত ধরে হাঙরের গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোবেন। লক্ষ্য থাকবে, হাঙরটির চলাচলের পথ নিয়ন্ত্রণ করে তাকে খোলা সমুদ্রের দিকে নিয়ে যাওয়া।
এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছিল। তখন নৌযান ও পানির প্রবাহ ব্যবহার করে হাঙরটিকে জলপথের বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টার প্রচেষ্টার পরও সেটিকে সমুদ্রে ফেরানো সম্ভব হয়নি। হাঙরটি নৌযানগুলোর পাশ কাটিয়ে বারবার জলপথের ভেতরে ফিরে যায়। ফলে আগের পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে এবার জাল ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
‘বুকাং-ই’কে প্রথম দেখা যায় গত ১৮ সেপ্টেম্বর। এরপর থেকে হাঙরটি বুসানের নর্থ পোর্ট এলাকার কৃত্রিম জলপথে ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রায় ৩ দশমিক ৫ মিটার দীর্ঘ হাঙরটিকে দেখতে প্রতিদিনই সেখানে মানুষের ভিড় জমেছে। ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ছয় লাখ মানুষ হাঙরটি দেখতে এসেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এরই মধ্যে এটি স্থানীয় বাসিন্দা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছে।
তবে মানুষের ব্যাপক আগ্রহের পাশাপাশি হাঙরটির শারীরিক অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলপথে আটকে থাকার পর থেকে হাঙরটিকে খাবার গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। এ কারণে তাকে সেখানে অনির্দিষ্টকাল রেখে দেওয়া ঠিক হবে না বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করছে। উদ্ধার অভিযান পরিচালনার সময় হাঙরের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
বুসান কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য হলো হাঙরটিকে আঘাত না করে নিরাপদে তার প্রাকৃতিক আবাসস্থলে ফিরিয়ে দেওয়া। তবে দ্বিতীয় দফার এই উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে হাঙরটির গতিবিধি, জলপথের পরিস্থিতি এবং উদ্ধারকারীদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর।
এদিকে হাঙরটির নাম ‘বুকাং-ই’ রাখা হয়েছে বুসানের নর্থ পোর্টের নাম থেকে। স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পর্যটকদের কাছেও এটি আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ১ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বুসান কর্তৃপক্ষের বরাতে জানানো হয়, হাঙরটিকে দেখতে আসা দর্শনার্থীর সংখ্যা ৬ লাখ ৭৪ হাজার ৮০০ ছাড়িয়েছে।
উদ্ধার অভিযানের সময় বিশেষজ্ঞরা হাঙরটির শারীরিক অবস্থা ও আচরণ পর্যবেক্ষণ করবেন। পরিস্থিতি অনুযায়ী অভিযানের গতি ও পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হতে পারে। হাঙরটিকে নিরাপদে সমুদ্রে ফেরানোই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য।




