দক্ষিণ কোরিয়ায় যেভাবে বাবা-মাকে নিতে পারবেন

0
12
দক্ষিণ কোরিয়ায় যেভাবে বাবা-মাকে নিতে পারবেন
দক্ষিণ কোরিয়ায় যেভাবে বাবা-মাকে নিতে পারবেন

দক্ষিণ কোরিয়ায় পড়াশোনা বা চাকরির সুবাদে বসবাস করছেন অনেক বাংলাদেশি। তাঁদের অনেকেরই ইচ্ছা, বাংলাদেশে থাকা বাবা-মাকে কিছুদিনের জন্য কোরিয়ায় নিয়ে আসবেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কোন ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে, কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন এবং শিক্ষার্থী হলে বাবা-মাকে আনার সুযোগ আছে কি না, তা নিয়ে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।

ভিসার ধরন নির্ভর করে কোরিয়ায় বসবাসরত সন্তানের ভিসার ক্যাটাগরি, আমন্ত্রণের উদ্দেশ্য এবং আবেদনকারীর পরিস্থিতির ওপর। তাই কোরিয়ায় অবস্থান করলেই বাবা-মাকে নির্দিষ্ট কোনো ভিসায় আনা যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

কোরিয়ায় D-2 শিক্ষার্থী ভিসা বা D-4 প্রশিক্ষণ ভিসায় থাকা বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। বাংলাদেশে অবস্থিত দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাসের প্রকাশিত ভিসা নির্দেশনায় F-1-5 ক্যাটাগরির কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে এই ক্যাটাগরিটি মূলত কোরীয় নাগরিককে বিয়ে করে কোরিয়ায় বসবাসরত অভিবাসীদের বাবা-মায়ের জন্য, যাতে তাঁরা সন্তান লালন-পালনে সহায়তা করতে পারেন। এটি সাধারণ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বাবা-মায়ের জন্য প্রযোজ্য কোনো সর্বজনীন ভিসা নয়।

তাই শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের ভ্রমণের উদ্দেশ্য অনুযায়ী কোন ভিসা প্রযোজ্য, তা আগে নিশ্চিত করতে হবে। স্বল্প সময়ের জন্য বেড়াতে আসা এবং দীর্ঘ সময় কোরিয়ায় অবস্থান করার আবেদন এক বিষয় নয়। আবেদন করার আগে কোরিয়ান ইমিগ্রেশন বা ঢাকায় অবস্থিত দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি।

ভিসার আবেদন প্রস্তুত করার সময় বাংলাদেশে থাকা বাবা-মায়ের বৈধ পাসপোর্ট, ছবি, ভিসার আবেদনপত্র এবং পারিবারিক সম্পর্কের প্রমাণের মতো কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে। আমন্ত্রণের উদ্দেশ্য ও ভিসার ধরন অনুযায়ী আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ, ভ্রমণ পরিকল্পনা, বিমানের বুকিং এবং অন্যান্য সহায়ক নথিও চাওয়া হতে পারে। তবে সব আবেদনকারীর জন্য একই তালিকা প্রযোজ্য নয়।

কোরিয়ায় থাকা সন্তানের কাছ থেকেও প্রয়োজন অনুযায়ী পাসপোর্ট ও রেসিডেন্স কার্ডের কপি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সনদ অথবা চাকরির প্রমাণ, বাসস্থানের তথ্য, ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং আমন্ত্রণপত্র চাওয়া হতে পারে। বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক প্রমাণের জন্য জন্মনিবন্ধন বা স্থানীয় সিটি করপোরেশন কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ইস্যু করা পারিবারিক সম্পর্কের সনদও প্রয়োজন হতে পারে। কোন নথি বাধ্যতামূলক, তা সংশ্লিষ্ট ভিসার নির্দেশনা দেখে নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশে কোরীয় দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী, ৪ মে ২০২৫ থেকে ভিসা আবেদনকারীদের Korea Visa Portal-এর মাধ্যমে ই-ফর্ম পূরণ করতে হয়। ফর্ম পূরণের পর বারকোডসহ আবেদনপত্র প্রিন্ট করে অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সঙ্গে দূতাবাসের কনস্যুলার বিভাগে জমা দিতে হয়। আবেদনকারীদের ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে আবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনাও রয়েছে।

আবেদন জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ভিসার সর্বশেষ নির্দেশনা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ফি এবং আবেদন জমা দেওয়ার পদ্ধতি যাচাই করা উচিত। দূতাবাস প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত নথি চাইতে পারে। আবেদন জমা দিলেই ভিসা অনুমোদিত হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

কোরিয়ায় থাকা বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শুধু নিজের ভিসার ধরন দেখে বাবা-মায়ের ভিসা নির্ধারণ না করা। তাঁদের ভ্রমণের উদ্দেশ্য, কত দিন থাকতে চান এবং আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সঠিক ক্যাটাগরি নির্বাচন করতে হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে