বেগুনি ফুলে সেজেছে বুসান, বাড়ছে পর্যটকদের ভিড়

0
16
বেগুনি ফুলে সেজেছে বুসান, বাড়ছে পর্যটকদের ভিড়
বেগুনি ফুলে সেজেছে বুসান, বাড়ছে পর্যটকদের ভিড়

দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান শহরের দেজো ইকোলজিক্যাল পার্কে ফুটেছে বেগুনি রঙের হাজারো ফুল। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে বেগুনি ফুলের এই সমারোহ দেখতে পার্কটিতে ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দা, প্রকৃতিপ্রেমী ও আলোকচিত্রী। প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ, অবসর কাটানো এবং মানসিক প্রশান্তির জন্য জায়গাটি ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

বুসান কৃষি প্রযুক্তি কেন্দ্রের উদ্যোগে পার্কটির ল্যান্ডস্কেপ অ্যাগ্রিকালচার এলাকায় বহুবর্ষজীবী ভারবেনা ও গাউরা ফুল ফুটেছে। এসব ফুলের রঙিন সমারোহ পার্কটির প্রাকৃতিক দৃশ্যকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

বুসান শহর কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পার্কের একটি অংশকে সারা বছর দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করার উপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে। এর লক্ষ্য শুধু ফুলের বাগান তৈরি নয়, বরং প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য, বিনোদন ও মানসিক প্রশান্তিকে এক জায়গায় নিয়ে আসা। এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেজো ইকোলজিক্যাল পার্ককে চার ঋতুতেই উপভোগ করার মতো একটি পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করতে চায় কর্তৃপক্ষ।

পার্কটির ল্যান্ডস্কেপ অ্যাগ্রিকালচার এলাকায় প্রায় ২০ হাজার বর্গমিটার জায়গাজুড়ে ফুলের চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে বেগুনি ভারবেনা ফুলের বড় বড় গুচ্ছ বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। পাশাপাশি প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা গাউরা ফুল মাঠের সৌন্দর্যে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। বাতাসে ফুলের দোল খাওয়া এবং বিস্তীর্ণ মাঠের রঙিন দৃশ্য দর্শনার্থীদের জন্য তৈরি করছে শান্ত ও মনোরম পরিবেশ।

ভারবেনা দীর্ঘ সময় ধরে ফুল ফোটানোর জন্য পরিচিত। ঘনভাবে ফুটে থাকা এই ফুল মাঠজুড়ে রঙিন গালিচার মতো দৃশ্য তৈরি করে। শুধু মানুষের দৃষ্টিই আকর্ষণ করছে না, ফুলগুলো মৌমাছি, প্রজাপতি ও অন্যান্য পরাগবাহীকেও আকৃষ্ট করছে। এর ফলে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও ভূমিকা রাখছে এই ফুলের মাঠ।

তবে পার্কটির আকর্ষণ শুধু গ্রীষ্মের বেগুনি ফুলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। সেখানে লাগানো পাম্পাস ঘাসও ধীরে ধীরে বেড়ে উঠছে। চলতি বছরের শরতে ঘাসের লম্বা রুপালি ফুলের ঝুঁটি দর্শনার্থীদের জন্য নতুন দৃশ্য তৈরি করবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। গ্রীষ্মের বেগুনি ফুলের মাঠের পর শরতের পাম্পাস ঘাস পার্কটির সৌন্দর্যে ভিন্নতা আনবে।

বুসান শহর কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে পার্কটিতে প্রকৃতিনির্ভর সুস্থতা ও প্রশান্তিমূলক কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনাও করছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষ যেন প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটাতে পারে এবং ব্যস্ত জীবন থেকে কিছুটা স্বস্তি পায়, সেই লক্ষ্য রাখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে দেজো ইকোলজিক্যাল পার্ককে শুধু মৌসুমি ফুল দেখার জায়গা নয়, বরং সারা বছর ঘুরে বেড়ানো, প্রকৃতি উপভোগ এবং অবসর কাটানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বেগুনি ফুলের বর্তমান সমারোহ এবং শরতে পাম্পাস ঘাসের নতুন দৃশ্য বুসানের এই পার্ককে প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে