বুসানে হাঙর দেখতে লাখো মানুষের ঢল

0
11
বুসানে হাঙর দেখতে লাখো মানুষের ঢল
বুসানে হাঙর দেখতে লাখো মানুষের ঢল

দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে একটি হাঙরকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। ছুটির দিনে হাঙরটি দেখতে শহরের নর্থ পোর্ট ওয়াটারসাইড পার্কে জড়ো হয়েছেন লাখো মানুষ। ‘বুকাং-ই’ নামে পরিচিত হাঙরটিকে দেখতে শুধু স্থানীয় বাসিন্দারাই নয়, দূরদূরান্ত থেকেও মানুষ সেখানে ভিড় করছেন। তিন দিনের ছুটিতে পার্কটিতে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার দর্শনার্থী গেছেন বলে জানিয়েছে বুসান ইনফ্রাস্ট্রাকচার করপোরেশন।

চোসুনবিজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ওই দিনে পার্কটিতে প্রায় ৮৩ হাজার মানুষের উপস্থিতি হিসাব করা হয়। সকালে বৃষ্টি হলেও মানুষের ভিড় কমেনি। ছাতা হাতে নিয়েই অনেকে কৃত্রিম জলপথের পাশে দাঁড়িয়ে হাঙরটির গতিবিধি দেখেছেন।

এর আগে চুসকের ছুটির প্রথম দিন ২৪ সেপ্টেম্বর পার্কটিতে প্রায় ১ লাখ ১ হাজার মানুষ গিয়েছিলেন। পরদিন ২৫ সেপ্টেম্বর দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজারে। এরপর ২৬ সেপ্টেম্বর আরও প্রায় ৮৩ হাজার মানুষ সেখানে যাওয়ায় তিন দিনে মোট দর্শনার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজারে পৌঁছায়।

তবে ‘বুকাং-ই’কে ঘিরে মানুষের আগ্রহ শুরু হয়েছে আরও আগে। ১৮ সেপ্টেম্বর হাঙরটি ওই কৃত্রিম জলপথে দেখা দেওয়ার পর থেকে প্রতিদিনই সেখানে মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এরই মধ্যে ৪ লাখের বেশি মানুষ হাঙরটি দেখতে এসেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হাঙরটি কৃত্রিম জলপথে কীভাবে ঢুকেছে এবং কেন সেখানে অবস্থান করছে, তা নিয়েও মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। হাঙরটির পিঠের পাখনা পানির ওপরে দেখা যাওয়ার দৃশ্য অনেক দর্শনার্থীর জন্য বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। ফলে নর্থ পোর্ট ওয়াটারসাইড পার্ক এখন বুসানের অন্যতম আলোচিত জায়গায় পরিণত হয়েছে।

দর্শনার্থীর চাপ সামলাতে কর্তৃপক্ষকে পার্কের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে হয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে বুসান ইনফ্রাস্ট্রাকচার করপোরেশন পার্কে প্রবেশ বন্ধ করে দেয় এবং উপস্থিত মানুষকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে শহরের পক্ষ থেকে মানুষকে ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে সম্ভব হলে গণপরিবহন ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

হাঙরটিকে কেন্দ্র করে আশপাশের ব্যবসায়ও এর প্রভাব পড়েছে। স্থানীয় কনভেনিয়েন্স স্টোর ও ক্যাফেগুলোতে দর্শনার্থীদের কারণে অতিরিক্ত ক্রেতা তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ একটি সামুদ্রিক প্রাণীর অপ্রত্যাশিত উপস্থিতি স্থানীয় পর্যায়ে এক ধরনের পর্যটন আকর্ষণ ও ব্যবসায়িক ব্যস্ততাও তৈরি করেছে।

এদিকে হাঙরটিকে সমুদ্রে ফিরিয়ে দেওয়া হবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। বুসান সিটি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রয়েছে, চুসকের ছুটির সময় পেরিয়ে গেলেও যদি ‘বুকাং-ই’ নিজে থেকে খোলা সমুদ্রে ফিরে না যায়, তাহলে তাকে সমুদ্রে ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

তবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েও সবার মত এক নয়। কিছু নাগরিকের প্রশ্ন, হাঙরটি যদি নিজে থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজে পেতে পারে এবং ওই পরিবেশে থাকার কারণেই সেখানে অবস্থান করে থাকে, তাহলে তাকে জোর করে সরিয়ে নেওয়া কতটা প্রয়োজন। ফলে ‘বুকাং-ই’কে ঘিরে মানুষের আগ্রহের পাশাপাশি এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে হাঙরটির পরবর্তী গন্তব্যও।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে