কোরিয়া ছাড়লেন আখির, সামনে আনলেন নানা কারণ

0
554
কোরিয়া ছাড়লেন আখির, সামনে আনলেন নানা কারণ
কোরিয়া ছাড়লেন আখির, সামনে আনলেন নানা কারণ

দক্ষিণ কোরিয়ায় পড়াশোনা ও বসবাসের অভিজ্ঞতার পর দেশটি ছেড়ে জার্মানিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ‘আখির’। কোরিয়ায় থাকার সময় পাওয়া বিভিন্ন অভিজ্ঞতা, কর্মক্ষেত্র, ভাষা, জীবনযাপন ও সামাজিক পরিবেশ নিয়ে নিজের অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, এসব বিষয় ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবনের পরিকল্পনা নতুন করে ভাবতে তাকে বাধ্য করেছে।

আখিরের ভাষ্য অনুযায়ী, কোরিয়ায় বিদেশিদের সামাজিকভাবে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় সমাজে বিদেশিদের সম্পূর্ণভাবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ নিয়ে তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ইতিবাচক নয়। তার মতে, কিছু ক্ষেত্রে বিদেশিদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের অভিজ্ঞতাও তৈরি হতে পারে।

কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ নিয়েও অসন্তুষ্ট আখির। তার মতে, কোরিয়ার ওয়ার্ক কালচারে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, কাজের চাপ এবং কর্মজীবনের সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য রক্ষা করা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন একই ধরনের কর্মপরিবেশে থাকার কারণে একসময় মানসিক চাপ ও হতাশা তৈরি হতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।

বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মক্ষেত্র বেছে নেওয়ার সুযোগ সীমিত হওয়াকেও বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন আখির। তার মতে, পড়াশোনা শেষ করার পর অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নিজেদের পছন্দ ও যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি খুঁজতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন। ফুড ডেলিভারি, ট্যাক্সি, কারখানা কিংবা নির্দিষ্ট কিছু করপোরেট চাকরির বাইরে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ অনেকের জন্য সহজ নয় বলে মনে করেন তিনি। ফলে পড়াশোনা শেষ করেও চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকতে হয় অনেককে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভাষাগত বাধা। আখিরের মতে, কোরিয়ান ভাষা না জানলে দৈনন্দিন জীবন থেকে শুরু করে চাকরি, সরকারি সেবা ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ পর্যন্ত অনেক কিছু জটিল হয়ে যায়। ফলে কোরিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে ভাষা শেখার চাপও বিদেশিদের জন্য বড় একটি বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

বেতন ও ক্যারিয়ার অগ্রগতির বিষয়টিও আখিরের অসন্তুষ্টির অন্যতম কারণ। তার মতে, দীর্ঘদিন কাজ করার পরও অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশা অনুযায়ী বেতন বৃদ্ধি বা পদোন্নতির সুযোগ পাওয়া যায় না। একজন কর্মী কয়েক বছর কাজ করার পরও যদি তার আর্থিক ও পেশাগত অগ্রগতি সীমিত থাকে, তাহলে কাজের প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

কাজ ও পড়াশোনার ব্যস্ততার কারণে ব্যক্তিগত সময় কমে যাওয়ার বিষয়টিও আখিরের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, মানসিক বিকাশের জন্য শুধু কাজ ও পড়াশোনা যথেষ্ট নয়। বিনোদন, সামাজিক যোগাযোগ, ভ্রমণ এবং নিজের জন্য সময় প্রয়োজন। কিন্তু ব্যস্ত জীবনযাত্রার কারণে সেই সুযোগ অনেক সময় সীমিত হয়ে পড়ে।

আখির আরও মনে করেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বৈচিত্র্য এখনো ইউরোপের অনেক দেশের তুলনায় সীমিত। বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং ভিন্ন সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ একজন মানুষের চিন্তাভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গিকে বিস্তৃত করতে পারে। তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় কোরিয়ায় সেই বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশ প্রত্যাশিত মাত্রায় পাওয়া যায়নি।

সংস্কৃতির বৈচিত্র্যের বিষয়টিও তার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। আখিরের মতে, কোরিয়ার নিজস্ব সংস্কৃতি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং দৈনন্দিন সামাজিক জীবনে সেটির প্রভাব স্পষ্ট। তবে বিদেশিদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও পরিচয় প্রকাশ এবং বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক মেলামেশার সুযোগ আরও বেশি থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

অন্যদিকে জার্মানি ও ইউরোপের প্রতি তার আগ্রহের অন্যতম কারণ হলো বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশ। বিভিন্ন দেশের মানুষ, ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে মেশার সুযোগ, আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্র এবং তুলনামূলকভাবে বৈচিত্র্যময় সামাজিক পরিবেশ তাকে আকৃষ্ট করেছে বলে জানান আখির।

তবে আখিরের এই বক্তব্য তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও মতামত। দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসরত সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বা বিদেশি কর্মীর অভিজ্ঞতা একই নয়। অনেক বিদেশি কোরিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থা, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রাকে ইতিবাচকভাবে দেখেন। আবার কারও কাছে ভাষা, কর্মক্ষেত্র কিংবা সামাজিক পরিবেশ বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে।

আখিরের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার পর নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জীবনযাত্রার সঙ্গে আরও বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিবেশ খুঁজতেই জার্মানিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এখন তার নতুন গন্তব্য জার্মানি, আর সেখানে নতুন পরিবেশে ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিজীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে