কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, ব্ল্যাক বক্স নিয়ে যা জানা গেল

0
6
কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, ব্ল্যাক বক্স নিয়ে যা জানা গেল
কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, ব্ল্যাক বক্স নিয়ে যা জানা গেল

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অ্যামাজনের একটি কার্গো বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে বিমানের ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার ও ককপিট ভয়েস রেকর্ডার উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। তবে ঠিক কী কারণে বিমানটি রানওয়ে ছাড়িয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ল, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার দুপুর ২টার কিছু আগে ঘটনাটি ঘটে। ২১ এয়ার পরিচালিত বোয়িং ৭৬৭-৩০০ বিমানটি পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে অবতরণের সময় রানওয়ে ছাড়িয়ে যায়।

দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। রানওয়ে পেরিয়ে যাওয়ার পর বিমানটি বিমানবন্দরের বিভিন্ন নেভিগেশন সরঞ্জাম ও স্থাপনায় আঘাত করে। এরপর সীমানাপ্রাচীর ভেঙে বিমানবন্দরের ভেতরে থাকা দুটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লাগে।

এর মধ্যে একটি সাদা ফোর্ড ভ্যান ছিল, যেটি বিমানবন্দরের চুক্তিভিত্তিক পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ওই ভ্যানে সাতজন ছিলেন। পরে বিমানটি একটি টয়োটা করোলার সঙ্গেও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। গাড়িটিতে ছিলেন তিনজন। রানওয়ে থেকে প্রায় ৩৯৪ মিটার দূরে গিয়ে বিমানটি থামে।

মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডের (এনটিএসবি) চেয়ার জেনিফার হোমেন্ডি জানান, তদন্ত এখনো প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহের পর্যায়ে রয়েছে। তাই দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। বিমানের ধ্বংসাবশেষের পাশাপাশি গাড়ি ও বিমানবন্দরের সীমানাপ্রাচীরের বিভিন্ন অংশও এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

তদন্তের এই পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে নিহতদের মরদেহ উদ্ধারে। হোমেন্ডি জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য বিমানে প্রবেশ বা অন্যান্য আলামত পরীক্ষা অপেক্ষা করতে পারে; কিন্তু নিহতদের উদ্ধারের কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে উদ্ধার করা হয়েছে বিমানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডার। ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডারে বিমানের গতি, উচ্চতা, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও অন্যান্য উড়োজাহাজ-সংক্রান্ত তথ্য থাকতে পারে। অন্যদিকে ককপিট ভয়েস রেকর্ডারে দুর্ঘটনার আগের সময়ের ককপিটের কথোপকথন ও বিভিন্ন শব্দ ধারণ করা থাকে। দুটি রেকর্ডারই বিস্তারিত পরীক্ষার জন্য এনটিএসবি সদর দপ্তরে পাঠানো হচ্ছে।

তদন্তকারীরা বিমানের আগের ফ্লাইটগুলোর ইতিহাস, দুই সদস্যের ক্রুর অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ, রাডারের তথ্য এবং বিমানটির কর্মক্ষমতা পরীক্ষা করবেন। পাশাপাশি আলাদা দল বিমানটির ইঞ্জিন ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করবে। দুর্ঘটনার সময় আবহাওয়ার পরিস্থিতি কী ছিল, তা খতিয়ে দেখবেন একজন আবহাওয়াবিদ।

দুর্ঘটনার সময় মায়ামি বিমানবন্দরের আশপাশে বজ্রঝড় সক্রিয় ছিল বলে বিবিসি ভেরিফাইয়ের প্রাথমিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। সে সময় বাতাসের সর্বোচ্চ ঝাপটা ঘণ্টায় প্রায় ২৬ নট পর্যন্ত উঠেছিল। তবে এসব আবহাওয়াগত পরিস্থিতি দুর্ঘটনার সরাসরি কারণ ছিল কি না, তা এখনো বলা হয়নি।

তদন্তের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে রানওয়ের শেষ প্রান্তে ‘ইঞ্জিনিয়ারড ম্যাটেরিয়ালস অ্যারেস্টিং সিস্টেম’ বা ইএমএএস থাকার প্রয়োজন ছিল কি না। রানওয়ে ছাড়িয়ে যাওয়া বিমানকে ধীর করে থামাতে এই বিশেষ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। এনটিএসবি বলছে, দুর্ঘটনার তদন্তে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণভাবে পর্যালোচনা করা হবে।

দুর্ঘটনার পর বিমানবন্দরের চারটি রানওয়ের মধ্যে দুটি বন্ধ রয়েছে। ফলে যাত্রী ও উড়োজাহাজ চলাচলে আরও বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। দুর্ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের লেবার ডে ছুটির ব্যস্ত সময়ের মধ্যে হওয়ায় এর প্রভাব আরও বেশি হয়েছে।

অ্যামাজন এ ঘটনায় প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। বিমান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ২১ এয়ারও নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তদন্তে কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছে।

এখন তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য হলো ধ্বংসস্তূপ, রেকর্ডার, আবহাওয়া ও বিমানের প্রযুক্তিগত তথ্য একত্র করে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ বের করা। এনটিএসবি জানিয়েছে, তদন্ত শেষে ভবিষ্যতে একই ধরনের দুর্ঘটনা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সুপারিশ করা হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে