আগস্টের পূর্ণ সূর্যগ্রহণের রেশ কাটতে না কাটতেই সেপ্টেম্বরের আকাশও সাজছে একের পর এক মহাজাগতিক আয়োজনে। মাসজুড়ে চাঁদের সঙ্গে মঙ্গল ও বৃহস্পতির কাছাকাছি অবস্থান, সবচেয়ে উজ্জ্বল অবস্থায় শুক্র, মিল্কিওয়ে দেখার দারুণ সুযোগ, শরতের শুরুতে অরোরা এবং বছরের অন্যতম আকর্ষণীয় হার্ভেস্ট মুন দেখা যেতে পারে।
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের ২৭ আগস্ট প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সেপ্টেম্বরের রাতের আকাশে দেখা যেতে পারে এমন নয়টি উল্লেখযোগ্য মহাজাগতিক ঘটনার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
চাঁদের পাশে মঙ্গল, ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর
সেপ্টেম্বরের শুরুতেই আকাশে দেখা যাবে চাঁদ ও মঙ্গলের কাছাকাছি অবস্থান। ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর ভোরের আকাশে চাঁদ ও মঙ্গল একে অপরের প্রায় তিন ডিগ্রির মধ্যে থাকবে। স্থানীয় সময় রাত ৩টার দিকে পূর্ব আকাশে তাকালে দেখা যেতে পারে এই জুটি। এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর একই দিকে বৃহস্পতির উদয় হবে। দক্ষিণ-পশ্চিম আকাশে শনিও দেখা যাবে।
বৃহস্পতির সঙ্গে চাঁদের দেখা, ৮ সেপ্টেম্বর
মঙ্গলের পর ৮ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতির কাছাকাছি চলে আসবে চাঁদ। ভোর ৪টার দিকে পূর্ব আকাশে তাকালে চাঁদ ও বৃহস্পতিকে পাশাপাশি দেখা যেতে পারে। সূর্য ওঠার আগ পর্যন্ত এই দৃশ্য উপভোগ করা যাবে।
নতুন চাঁদের অন্ধকারে মিল্কিওয়ে, ১১-১২ সেপ্টেম্বর
তারকা দেখার জন্য নতুন চাঁদের সময়টি বিশেষ উপযোগী। কারণ তখন চাঁদের আলো প্রায় থাকে না বললেই চলে। ফলে দূষণমুক্ত অন্ধকার আকাশে মিল্কিওয়ে, নীহারিকা ও দূরবর্তী গ্যালাক্সি দেখার সুযোগ বাড়ে।
১১ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর নতুন চাঁদের সময়। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে উত্তর গোলার্ধ থেকে মিল্কিওয়ের কেন্দ্র দেখার শেষ দিকের সুযোগগুলোর একটি হতে পারে সেপ্টেম্বর। নভেম্বরের পর এটি আবার স্পষ্টভাবে দেখা যাবে বসন্তে।
চাঁদের পাশে শুক্র, ১৪ সেপ্টেম্বর
১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর পশ্চিম আকাশে তৈরি হবে আরেকটি সুন্দর দৃশ্য। সূর্য ডোবার পর সরু চাঁদের পাশে দেখা যাবে উজ্জ্বল শুক্রকে। দুটি আকাশীয় বস্তু একে অপরের প্রায় পাঁচ ডিগ্রির মধ্যে থাকবে। সূর্যাস্তের পর প্রায় এক ঘণ্টা পর্যন্ত এই দৃশ্য দেখা যেতে পারে।
বছরের সবচেয়ে উজ্জ্বল শুক্র, ১৮ সেপ্টেম্বর
১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শুক্র গ্রহ ২০২৬ সালের সন্ধ্যাকালীন আবির্ভাবের সবচেয়ে উজ্জ্বল অবস্থায় পৌঁছাবে। এর উজ্জ্বলতা হবে প্রায় -৪.৮ মাত্রা। শহরের উজ্জ্বল পরিবেশেও শুক্র খুঁজে পাওয়া তুলনামূলক সহজ। সূর্যাস্তের পর পশ্চিম দিগন্তের কাছে তাকালেই দেখা যেতে পারে গ্রহটি। কাছেই থাকবে বুধও।
শরতের শুরু, বাড়তে পারে অরোরার সম্ভাবনা, ২২ সেপ্টেম্বর
উত্তর গোলার্ধে ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শুরু হবে শরৎ। একই সময়ে অরোরা বা নর্দার্ন লাইট দেখার মৌসুমও জমে উঠতে পারে। বিষুবের সময় পৃথিবীর অবস্থান সৌরবায়ুর প্রভাবের জন্য কিছুটা অনুকূল হওয়ায় এ সময় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি অরোরা দেখা যেতে পারে।
তবে অরোরা নির্ভুলভাবে আগে থেকে অনুমান করা কঠিন। তাই উত্তর মেরুর কাছাকাছি অঞ্চলে আকাশ পরিষ্কার থাকলে এই সময় আকাশ পর্যবেক্ষণকারীদের জন্য বাড়তি সুযোগ তৈরি হতে পারে।
মঙ্গলের সঙ্গে জেমিনি নক্ষত্রমণ্ডল, ২৫ সেপ্টেম্বর
২৫ সেপ্টেম্বর ভোরে মঙ্গলকে দেখা যাবে জেমিনি নক্ষত্রমণ্ডলের দুই পরিচিত তারা ক্যাস্টর ও পোলাক্সের কাছাকাছি। পূর্ব আকাশে তিনটি উজ্জ্বল বিন্দু প্রায় একটি সরল বিন্যাস তৈরি করবে। ওপরে থাকবে ক্যাস্টর, মাঝখানে পোলাক্স এবং নিচে কমলা আভাযুক্ত মঙ্গল। আরও নিচে দিগন্তের কাছে দেখা যেতে পারে বৃহস্পতিকে।
হার্ভেস্ট মুন, ২৬ সেপ্টেম্বর
২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় উঠবে পূর্ণ ‘হার্ভেস্ট মুন’। কৃষিনির্ভর ঐতিহ্যে শরতের এই পূর্ণিমার চাঁদের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সূর্যাস্তের সময় চাঁদ ওঠার দৃশ্য অথবা সূর্যোদয়ের সময় চাঁদ অস্ত যাওয়ার দৃশ্য দেখার জন্য সবচেয়ে ভালো সময়।
দিগন্তের কাছে চাঁদকে স্বাভাবিকের চেয়ে বড় ও উজ্জ্বল মনে হতে পারে। এটিকে ‘মুন ইলিউশন’ বলা হয়। এ সময় চাঁদের রংও কিছুটা কমলা দেখাতে পারে। চাঁদের সঙ্গে থাকবে শনিও। দূরবীন থাকলে কাছাকাছি নেপচুনও খুঁজে দেখা যেতে পারে।
সেপ্টেম্বরজুড়ে অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি
মাসের আরেকটি বড় আকর্ষণ অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি। পৃথিবী থেকে প্রায় ২৫ লাখ আলোকবর্ষ দূরে থাকা এই সর্পিল গ্যালাক্সি মিল্কিওয়ের সবচেয়ে কাছের বড় গ্যালাক্সি। খুব অন্ধকার আকাশে খালি চোখেও এটি অস্পষ্ট আলোর দাগের মতো দেখা যেতে পারে। তবে বাইনোকুলার বা ছোট টেলিস্কোপ ব্যবহার করলে দৃশ্যটি আরও স্পষ্ট হবে।
সেপ্টেম্বরজুড়ে রাতের আকাশে তাই মহাকাশপ্রেমীদের জন্য একের পর এক সুযোগ অপেক্ষা করছে। শুধু শহরের আলো থেকে একটু দূরে গিয়ে আকাশের দিকে তাকালেই দেখা মিলতে পারে সৌরজগতের গ্রহ থেকে শুরু করে কোটি আলোকবর্ষ দূরের গ্যালাক্সিরও।




